
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাংগামোর ইউনিয়নের বসুনিয়াটারী গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর অপহরণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। প্রেম, বিবাহ, ডিভোর্স—সবকিছুর জটিলতা পেরিয়ে এবার সামনে এসেছে সুপরিকল্পিত অপহরণের অভিযোগ, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসুনিয়াটারী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আফতার হোসেনের ছোট ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। সেখানে এক নারীর সাথে সম্পর্কের জেরে ১ লক্ষ টাকা দেনমোহরে তার বিবাহ হয়। তবে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অনিচ্ছার কারণে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে তিনি ওই সম্পর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে কাজির মাধ্যমে সামাজিকভাবে ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।
কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ডিভোর্সের প্রায় ২৪-২৫ দিন পর, মৃত হোসেন আলীর ছেলে ও স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই নারীর সাথে যোগাযোগ করে মোঃ নজরুল ইসলামকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন এবং এর বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর মধ্যে অগ্রিম ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি মাইক্রোবাস ও ৫ জন ভাড়াটে লোক নিয়ে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। বাজার থেকে ফেরার পথে নজরুল ইসলামকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। এতে স্থানীয় জনগণ ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ৩ জন অপহরণকারীকে আটক করে, যদিও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা মাইক্রোবাস ভাংচুর করে। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোঃ এমদাদুল হক আটককৃতদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, প্রশাসন ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, অভিযোগ উঠেছে—মোঃ এমদাদুল হক রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং প্রশাসনের সামনেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
