জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট

বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মামলা বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার নিয়োগ বাতিল ও তদন্তের দাবিতে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। এই ঘটনা কুড়িগ্রামের আইনাঙ্গনসহ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও মামলা বাণিজ্যের একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কুড়িগ্রাম জেলা শাখা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তাঁর নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় আইনাঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগে জানানো হয়, অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মামলার পক্ষ বিপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এছাড়া নিরীহ মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ২০০৬ সালের একটি মীমাংসিত হত্যা মামলাকে নতুন করে সচল করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা এবং আন্দোলনের শহীদদের নাম ব্যবহার করে মামলা বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে বজলুর রশিদ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর নিজ গ্রাম ভিতরবন্দে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে অস্বাভাবিক অর্থ জমার তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে সেশন ট্রায়ালের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার্থে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা সমীচীন নয়। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পিপি অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *