কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ( ১ মে) সকালে গ্রেফতারকৃত ২ আসামীকে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে। এতথ‍্য নিশ্চিত করেছেন ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন।

পুলিশ জানায়, নিহত আক্তারুজ্জামান রুবেল (২৫) উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের মাহিগঞ্জ চান্দুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের ছেলে। প্রায় ৫ বছর আগে জেসমিন খাতুনের (২৩) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল।

গত ১৭ এপ্রিল সকালে পারিবারিক বিরোধের জেরে জেসমিন খাতুন বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে স্ত্রীকে আনতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তার ভাই মিজানুর রহমান (৩৮) এবং আরও ২-৩ জন ব্যক্তি মিলে রুবেলকে বাঁশের লাঠি, লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ এপ্রিল রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় (২৫ এপ্রিল) নিহতের বাবা বাদী হয়ে ভুরুঙ্গামারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর তথ‍্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের অবস্থান নিশ্চিত করে র‍্যাব-১৩ (রংপুর) ও র‍্যাব-১ (উত্তরা) এর যৌথ অভিযানে (২৯ এপ্রিল) বিকেলে গাজীপুরের বাসন থানার কলম্বিয়া রোড এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান ও ২ নম্বর আসামি জেসমিন খাতুনকে গ্রেফতার করে শুক্রবার সকালে ভূরুঙ্গামারী থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাদেরকে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন ঘটনার সত‍্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *